আরএমপি নিউজ: রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), বোয়ালিয়া, শাহমখদুম, মতিহার ও পবা থানা পুলিশ নারীসহ ৮ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরএমপি সূত্র জানায়, গত ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি. তারিখে পরিচালিত অভিযানে মোট ৬১ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১ গ্রাম হেরোইন, ৩ হাজার এমএল দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও মাদক বিক্রির নগদ ৭ হাজার ৫০ টাকা এবং মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ২টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মোছা: ময়না বেগম (৪০), মো: শাকিল (২০), মাবিয়া (৪২), মো: রাহাদ আহমেদ রাফি (২৯), মো: রাকিবুল ইসলাম জাহিদ (৩০), মো: আবুল কালাম আজাদ (৪০), মো: রাজা হোসেন (৩০) এবং মো: রাকিব মিয়া (২৯)।
ময়না বেগম মো: সুমনের স্ত্রী এবং শাকিল মো: আলমের ছেলে (পালক পিতা: মো: সুমন)। তারা নাটোর জেলার সদর থানার বড়বাড়িয়া গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার উপর ভদ্রা (রেলওয়ে বস্তি) এলাকায় বসবাস করছেন। মাবিয়া রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ভাটাপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের স্ত্রী। রাফি রাজশাহী মহানগরীর বোয়ালিয়া থানার সাগরপাড়া গ্রামের আ: রহিমের ছেলে। রাকিবুল নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুর থানার বালাহোর গ্রামের মো: আ: রাজ্জাকের ছেলে, তিনি বর্তমানে রাজশাহী মহানগরীর এয়ারপোর্ট থানার বায়া গ্রামে বসবাস করছেন। আজাদ রাজশাহী মহানগরীর মতিহার থানাধীন ডাঁশমারী উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত ছায়েন উদ্দিনের ছেলে। রাজা নওগাঁ জেলার সদর থানার প্রতাবদহ গ্রামের মৃত মোরছালিন মন্ডলের ছেলে এবং রাকিব গাজীপুর মহানগরীর কাশিমপুর থানার নয়াপাড়া গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে।
গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আরএমপির গোয়েন্দা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক সমিত কুমার কুন্ডুর নেতৃত্বে একটি দল বোয়ালিয়া থানার ভদ্রা মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার উপর ভদ্রা রেলওয়ে বস্তি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে ময়না ও শাকিলকে তাদের বসতবাড়ি থেকে মাদক বিক্রির সময় গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেহ তল্লাশি করে ময়নার হাতে থাকা ব্যাগ থেকে ৩৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ ৭ হাজার ৫০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও শাকিলের কাছ থেকে ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামি শাকিলের বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন আইনে মোট ৫টি মামলা চলমান রয়েছে।
অপরদিকে একই তারিখ দুপুর আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো: নজরুল ইসলাম জুয়েল এর নেতৃত্বে একটি টিম রাজপাড়া থানার কোর্ট স্টেশন মোড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে একই থানার লক্ষীপুর ভাটাপাড়া এলাকার একটি বসতবাড়ি থেকে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থানরত মাবিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে হাতে থাকা একটি কৌটার ভেতর থেকে ১ গ্রাম হেরোইন এবং ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এদিকে একই তারিখ দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রবিউল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো. রবিউল ইসলাম ও তার টিম বোয়ালিয়া থানার আলুপট্টি মোড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে একই থানার অলকার মোড় সংলগ্ন কৃষ্ণকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেইন গেটের সামনে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থানরত রাফিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও একই তারিখ দুপুর আনুমানিক সোয়া ১টার দিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) শাহমখদুম থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফারুক হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই সুভাষ চন্দ্র বর্মন ও তার টিম শাহমখদুম থানার আমচত্তর চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে এয়ারপোর্ট এলাকা হতে আমচত্তরের দিকে আগত একটি সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করেন। তল্লাশিকালে রাকিবুলের কাছ থেকে ২০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়। তবে গ্রেপ্তারকৃত রাকিবুলের সহযোগী অপর আসামি গোপাল (২৮), পিতা-অজ্ঞাত, সাং-বায়া, থানা-এয়ারপোর্ট, মহানগর, রাজশাহী কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আবুল কালাম আজাদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো. ইমাজ উদ্দিন ও তার টিম মতিহার থানার অক্ট্রয় মোড় এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে একই থানার ডাঁশমারী উত্তর পাড়া এলাকায় নিজ বসতবাড়িতে মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থানরত আজাদকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৩ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
অন্যদিকে গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ৩টার দিকে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) পবা থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল মতিনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মনিরুল ইসলাম ও তার টিম পবা থানার নওহাটা আনসার ব্যাটালিয়নের সামনে স্থাপিত চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে নওগাঁ হতে রাজশাহী অভিমুখে আগত সন্দেহভাজন একটি মোটরসাইকেল থামিয়ে তল্লাশি করেন। তল্লাশিকালে রাজার কাঁধে থাকা ব্যাগের ভেতর থেকে ৩ হাজার এমএল দেশীয় তৈরি মদ উদ্ধার করা হয় এবং রাজা ও তার সহযোগী রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়াও মাদক পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাদকদ্রব্য নিজ নিজ হেফাজতে রাখার কথা স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। পলাতক আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।