আরএমপি নিউজ: রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পৃথক মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), বেলপুকুর, এয়ারপোর্ট, বোয়ালিয়া ও কাশিয়াডাঙ্গা থানা পুলিশ নারীসহ ৫ জন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।
আরএমপি সূত্র জানায়, গত ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখের অভিযানে মোট ৬৫ পিস ইয়াবা ও ১০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মো: নাসিম (২৮); মো: ফেরেদুল ইসলাম (৪৭); মো: মুরসালিন রেজা (২৯); মো: নয়ন (৩৫) এবং মোসা: ফাতেমা বানু (২৯)।
নাসিম কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম (রানীদিঘী) গ্রামের মৃত কামরুল ইসলামের ছেলে; ফেরেদুল বেলপুকুর থানার জামিরা (কিসমত জামিরা) গ্রামের মো: ছইমুদ্দীনের ছেলে; মুরসালিন এয়ারপোর্ট থানার বায়া (বারইপাড়া) গ্রামের মো: ওবাইদুল হকের ছেলে; নয়ন বোয়ালিয়া থানার শেখেরচক পাঁচানী মাঠ গ্রামের মৃত হাবিবের ছেলে এবং ফাতেমা কাশিয়াডাঙ্গা থানার হড়গ্রাম পীর সাহেবপাড়া গ্রামের মো: রবিনের স্ত্রী।
আরএমপি জানায়, গতকাল শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬ খ্রি.) সন্ধ্যা আনুমানিক ৫টার দিকে মহানগর ডিবি পুলিশের পুলিশ পরিদর্শক মো: আরিফুর রহমান পিপিএম ও তার টিম কাশিয়াডাঙ্গা থানার চারখুটার মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার কোর্ট কলেজপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নাসিমকে গ্রেপ্তার করা হলেও অপর সহযোগী আসামি মো: সুমন (২৯), পিতা-মো: বাইদুল, সাং-আলীগঞ্জ (ঠাকুরমারা), থানা-কাশিয়াডাঙ্গা রাজশাহী মহানগর কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে নাসিমের দেহ তল্লাশি করে ৩০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। নাসিমের বিরুদ্ধে আরএমপির বিভিন্ন থানায় বিভিন্ন আইনে ৪টি মামলা এবং পলাতক আসামি সুমনের বিরুদ্ধে কর্ণহার থানায় ১টি মাদক মামলা চলমান রয়েছে।
অন্যদিকে একই দিন রাত আনুমানিক পৌনে ৮টার দিকে বেলপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আরজুনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো: আজাহারুল ইসলাম ও তার টিম বেলপুকুর জামিরা বাজারে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার কিসমত জামিরা গ্রামের ছইমুদ্দীনের বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ফেরেদুলকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ৮ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে বেলপুকুর থানায় ৭টি মাদক মামলা চলমান রয়েছে।
এদিকে একই দিন দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ১২টার দিকে এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ মাছুমা মুস্তারীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে বায়া বাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো: জাহাঙ্গীর আলম ও তার টিম থানা এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার বায়া বারইপাড়া গ্রামের মুরসালিনের বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে মুরসালিনকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
তাছাড়াও একই দিন রাত আনুমানিক পৌনে ১১টার দিকে বোয়ালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রবিউল ইসলামের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই মো: মাসুদ কবির ও তার টিম একই থানার সাগরপাড়া মোড়ে দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একই থানার শাহমখদুম কলেজের পূর্ব পার্শ্বে পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করে নয়নকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ১৫পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
এছাড়াও একই দিন দুপুর আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে কাশিয়াডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: ফরহাদ আলীর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এসআই নূর মোহাম্মদ সরদার ও তার টিম একই থানার হড়গ্রাম পীর সাহেবপাড়ার ফাতেমার বসত বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে ফাতেমাকে গ্রেপ্তার করেন। পরে তার দেহ তল্লাশি করে ২ পিস ট্যাপেন্টাডল ও ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে এসব মাদকদ্রব্য নিজ হেফাজতে রাখার বিষয়টি স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের এবং পলাতক আসামির বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। এছাড়া পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।